সোশ্যাল মিডিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
সোশ্যাল মিডিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে
দাঁড়িয়েছে। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, টুইটার কিংবা লিংকডইন এগুলো
এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং শিক্ষা, ব্যবসা, যোগাযোগ ও ক্যারিয়ার গঠনের
অন্যতম হাতিয়ার। তবে এর যেমন উপকারিতা রয়েছে, তেমনি কিছু অপকারিতাও আছে।
শেখার সুযোগ ও ব্যবসার বিকাশ, আবার রয়েছে ক্ষতিও, যেমন সময় নষ্ট, আসক্তি,
প্রতারণা ও মানসিক সমস্যা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সোশ্যাল মিডিয়া একদিকে লাখো
উদ্যোক্তার আয়ের উৎস, অন্যদিকে হাজারো শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ক্ষতির কারণ। তাই
সোশ্যাল মিডিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা দুটোকেই বুঝে ব্যবহার করা জরুরি।
পেইজ সুচিঃ সোশ্যাল মিডিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
- সোশ্যাল মিডিয়ার উপকারিতা
- শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জন
- বিনোদনের মাধ্যম
- সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি
- বিশ্বব্যাপী সংযোগ
- রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ
- আসক্তি ও মানসিক সমস্যা
- ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি
- ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ঝুঁকি
- সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল হওয়া
- শিক্ষার্থীদের ক্ষতি
- অপরাধ ও প্রতারণা
- বাংলাদেশে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব
- শেষ কথাঃ সোশ্যাল মিডিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
সোশ্যাল মিডিয়ার উপকারিতা
সোশ্যাল মিডিয়ার সুবিধা ও অসুবিধার মধ্যে যোগাযোগের সুবিধা অন্যতম। পৃথিবীর
যেকোনো প্রান্তে থাকা বন্ধু, আত্মীয় কিংবা সহকর্মীর সাথে মুহূর্তের মধ্যে
যোগাযোগ সম্ভব। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমো ব্যবহার করে পরিবারকে কাছে
পাওয়া যায়। ব্যবসায়ীরা গ্রাহকের সাথে সরাসরি সংযুক্ত হতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে থাকা মানুষ সহজেই পরিবারের
সদস্য, বন্ধু বা পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। চ্যাট, ভিডিও কল ও ভয়েস
কল সবকিছু এখন হাতের মুঠোয়।
শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জন
শিক্ষাক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইউটিউব, ফেসবুক গ্রুপ, অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেকোনো বিষয়
সহজে শিখতে পারে। শিক্ষকরা অনলাইন ক্লাস নিতে পারে এবং শিক্ষার্থীরা সরাসরি
প্রশ্ন করতে পারে। বাংলাদেশে অনেক অনলাইন এডুকেশন প্ল্যাটফর্ম ১০ মিনিট
স্কুল,
রবি টেন মিনিট স্কুল ইত্যাদি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে
সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার এর মাধ্যমে।বর্তমানে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গবেষক সবাই সোশ্যাল মিডিয়াকে তথ্য ও
জ্ঞানের উৎস হিসেবে ব্যবহার করছে। বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপ, ফোরাম ও ইউটিউব
চ্যানেল থেকে সহজেই শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব।
বিনোদনের মাধ্যম
অবসর সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া মানুষকে বিনোদন দেয়। ইউটিউব ভিডিও, টিকটক শর্টস,
ফেসবুক রিল দেখে অনেকে আনন্দ পায়। গান, সিনেমা, কমেডি কনটেন্ট বিনোদনের
অন্যতম উৎস। অনেকে আবার নিজের প্রতিভা যেমন গান, অভিনয়, লেখালেখি এসব প্রকাশ
করার সুযোগ পায়। ব্যবসা ও আয়ের সুযোগ, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমের উপকারিতা ব্যবসা এবং আয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ফেসবুক পেজ বা
ইন্সটাগ্রাম শপ খুলে ব্যবসা করা যায়।
আরো পড়ুনঃ অনলাইন যাত্রার সম্পর্কে
সোশ্যাল মিডিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা, ইউটিউব ভিডিও বানিয়ে বিজ্ঞাপন থেকে আয় করা সম্ভব। ডিজিটাল মার্কেটিং এখন
পুরোপুরি নির্ভর করে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব এর ওপর বাংলাদেশে হাজার হাজার
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যবসা করছে। ভিডিও, গান, মুভি, শর্ট
ক্লিপস, সব ধরনের বিনোদন এখন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায়। এটি
একঘেয়েমি কাটাতেও সাহায্য করে।
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে সমাজের উন্নয়ন ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা যায়।
যখন মানুষ সামাজিক দায়িত্ব, নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন
হয়, তখন তারা সমাজের সমস্যাগুলো চিনতে এবং সমাধানে অংশ নিতে পারে। এটি
পরিবার, সম্প্রদায় এবং রাষ্ট্রের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। শিক্ষার মান
বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যবিধি মানা, দাতব্য কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং
বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়া সামাজিক সচেতনতার অংশ।
সামাজিক সচেতন নাগরিকরা শান্তি, ন্যায় এবং সমতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।
ফলে সমাজ আরও সুস্থ, সুশৃঙ্খল এবং প্রগতিশীল হয়ে ওঠে। সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যম সমাজে সচেতনতা তৈরি করে। স্বাস্থ্য সচেতনতা, শিক্ষা, দুর্যোগ
মোকাবিলা, রক্তদান ইত্যাদি বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ
বা দুর্ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সাহায্য সংগৃহীত হয়। সোশ্যাল
মিডিয়া অনেক সময় সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন
আন্দোলন, জরুরি তহবিল সংগ্রহ বা দাতব্য কাজে মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে
যুক্ত হয়।
বিশ্বব্যাপী সংযোগ
সোশ্যাল মিডিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা বিশ্বব্যাপী সংবাদ আমাদের পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাথে যুক্ত রাখে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও
মানবাধিকার সংক্রান্ত খবর মানুষকে সচেতন করে। বিশ্ববাজারের ওঠা-নামা,
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ ও শান্তিচুক্তি, মহামারি এবং
সামাজিক আন্দোলনের খবর দ্রুত ছড়ায়।
সংবাদ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মানুষ সঠিক তথ্য পায় এবং
সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এটি দেশের মধ্যে নীতিনির্ধারণ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তাই বিশ্বসংবাদ শুধু তথ্য নয়, শিক্ষা
ও সামাজিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমও। সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক প্রভাব হলো
পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মানুষকে সংযুক্ত করা বিভিন্ন
সংস্কৃতি, ভাষা, জীবনধারা সম্পর্কে জানা যায়। বিদেশে চাকরি, পড়াশোনা বা
ব্যবসার সুযোগ সম্পর্কে সহজে তথ্য পাওয়া যায়।
রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ
আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়া রাজনীতি ও সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
মানুষ নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারে। প্রতিবাদ, আন্দোলন, নির্বাচনী প্রচারণা
এসবেও সোশ্যাল মিডিয়ার বড় ভূমিকা রয়েছে।রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ সমাজ
ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। ভোট দেওয়া, আন্দোলন বা কমিউনিটি
কার্যক্রমে অংশ নেওয়া নাগরিকদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সচেতন ব্যবহার এবং
সক্রিয় অংশগ্রহণ একসাথে সমাজকে সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও প্রগতিশীল করে।
সোশ্যাল মিডিয়ার অপকারিতা
সোশ্যাল মিডিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সময় নষ্ট হওয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে একজন মানুষ প্রতিদিন গড়ে ৩-৪ ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যয় করে। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা স্ক্রল করতে থাকে। এটি আসলে সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি তৈরি করে।
আসক্তি ও মানসিক সমস্যা
সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব হলো আসক্তি। ঘুম কমে যাওয়া, পড়াশোনা বা
কাজে মনোযোগ হারানো, সবকিছুতেই প্রভাব পড়ে। অনেকেই অন্যের জীবনের সাথে নিজের
জীবন তুলনা করে হতাশায় ভোগে। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা বাড়ে। অতিরিক্ত
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার মানুষকে আসক্ত করে তোলে। পড়াশোনা, কাজ বা ব্যক্তিগত
জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
অনেকেই প্রয়োজন ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটকে কাটায়, যা
পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারে ক্ষতি করে। অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার হতাশা,
উদ্বেগ, ঈর্ষা ও হীনমন্যতার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে অন্যদের সাজানো জীবন
দেখে অনেকেই নিজের জীবনকে ছোট মনে করে।
ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপকারিতার মধ্যে ভুয়া খবর অন্যতম। ফেসবুক বা
টুইটারে অনেক সময় ভুয়া তথ্য ভাইরাল হয়। গুজবের কারণে সহিংসতা, অর্থনৈতিক
ক্ষতি বা রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। মানুষ না বুঝেই ভুল তথ্য বিশ্বাস
করে।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ঝুঁকি
সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রোফাইল হ্যাকিং, আইডি চুরি, প্রতারণা ইত্যাদি ঘটতে পারে। ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য অপব্যবহার হতে পারে। অনেকে সাইবার বুলিং-এর শিকার হয়। সোশ্যাল মিডিয়া নিজে খারাপ নয়, বরং এর ব্যবহারই ভালো বা খারাপ প্রভাব তৈরি করে। তাই সময়কে সঠিকভাবে ভাগ করে ব্যবহার করা উচিত। প্রয়োজনীয় তথ্য খোঁজা, জ্ঞান অর্জন, ব্যবসা প্রচার এবং ইতিবাচক কাজে সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগানো উচিত।
সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল হওয়া
সোশ্যাল মিডিয়ার সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করলে দেখা যায়, বাস্তব
জীবনের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ছে। পরিবার বা বন্ধুদের সাথে সময় না কাটিয়ে
মানুষ অনলাইনে বেশি সময় দেয়। বাস্তব সামাজিকতা কমে যাচ্ছে। আধুনিক
প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের সামাজিক সম্পর্ককে
দুর্বল করে দিচ্ছে।
আগে মানুষ পরিবার, বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের সাথে সরাসরি সময় কাটাতো, কিন্তু
এখন অনেকে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় বেশি ব্যস্ত। এতে বাস্তব জীবনের
সম্পর্কগুলোতে দূরত্ব তৈরি হয়। একসাথে বসে গল্প করা, খোঁজখবর নেওয়া বা
আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ কমে যাচ্ছে। ফলে একাকীত্ব, মানসিক চাপ ও পারস্পরিক
ভুল বোঝাবুঝি বাড়ছে। সামাজিক সম্পর্ককে শক্তিশালী রাখতে হলে অনলাইনের
পাশাপাশি বাস্তব জীবনের সম্পর্কের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের ক্ষতি
সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার সময় ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটকে বেশি সময় ব্যয় করে,
ফলে মনোযোগ নষ্ট হয় এবং পড়াশোনায় পিছিয়ে যায়। ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আসক্ত হয়ে
তারা বাস্তব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো অবহেলা করে। এতে পরীক্ষার ফলাফল
খারাপ হয় এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ক্ষতির মুখে পড়ে।
তাছাড়া অনলাইনে অশ্লীল কন্টেন্ট, ভুয়া তথ্য ও গেম আসক্তি শিক্ষার্থীদের
মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করছে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি সোশ্যাল
মিডিয়া ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীরা যদি সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার
সীমাহীনভাবে করে তবে তা পড়াশোনার জন্য ক্ষতিকর পরীক্ষার সময় মনোযোগ হারিয়ে
যায়। টিকটক, গেমস, ভিডিও দেখে পড়াশোনার সময় নষ্ট হয় অনেকেই আসক্ত হয়ে
ভবিষ্যতের ক্ষতির মুখে পড়ে।
অপরাধ ও প্রতারণা
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। ভুয়া আইডি ব্যবহার করে
প্রতারণা, টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। প্রেম বা বন্ধুত্বের নামে অনেকে
ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়। শিশু,কিশোররা সহজেই প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে। বর্তমান
ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি নানা
ধরনের অপরাধও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভুয়া আইডি খুলে প্রতারণা, হ্যাকিং, সাইবার বুলিং, ব্ল্যাকমেইল এবং গুজব
ছড়ানো এখন সাধারণ সমস্যা। অনেক সময় ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য ব্যবহার করে
মানুষকে হয়রানি ও চাপে ফেলা হয়। বিশেষ করে তরুণ সমাজ এসব অপরাধের শিকার
হচ্ছে বেশি। সোশ্যাল মিডিয়া অপরাধ শুধু ব্যক্তিকে নয়, সমাজকেও অস্থির করে
তোলে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষা, শক্তিশালী সাইবার আইন এবং সতর্ক
ব্যবহারই এ ধরনের অপরাধ রোধের কার্যকর উপায়।
বাংলাদেশে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব
বাংলাদেশে প্রায় ৭ কোটিরও বেশি মানুষ নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করে, যার
মধ্যে প্রায় ৯০% ব্যবহারকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়। শিক্ষার্থীরা
অনলাইনে পড়াশোনা করছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে
ব্যবসা করছে। তবে একই সাথে গুজব, প্রতারণা, সাইবার ক্রাইমও বাড়ছে অতএব,
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সোশ্যাল মিডিয়া একদিকে সুযোগের দুয়ার খুলেছে,
অন্যদিকে চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে।
শেষ কথাঃ সোশ্যাল মিডিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
সবশেষে বলা যায়, সোশ্যাল মিডিয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা প্রভাব আধুনিক সমাজে ইতিবাচক ও নেতিবাচক,
দুটো দিকেই গভীরভাবে কাজ করছে। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি শিক্ষা, ব্যবসা,
যোগাযোগ, বিনোদন এবং সচেতনতার ক্ষেত্রে অসামান্য ভূমিকা রাখে। তবে অতিরিক্ত
ব্যবহার, আসক্তি, ভুয়া খবর, প্রতারণা ও মানসিক সমস্যার কারণে এর ক্ষতিও
অনেক। তাই আমাদের উচিত সচেতনভাবে ব্যবহার করা, সীমিত সময় ব্যয় করা এবং
ইতিবাচক দিকগুলো কাজে লাগানো। তাহলেই আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার উপকারিতা
পুরোপুরি উপভোগ করতে পারব এবং অপকারিতা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারব।
অনলাইন যাত্রা আজকের ডিজিটাল যুগে আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি
শিক্ষা, তথ্য, ব্যবসা ও যোগাযোগের সুবিধা প্রদান করে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে
আমরা বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে জ্ঞান অর্জন করতে পারি, শিক্ষামূলক ভিডিও
বা আর্টিকেল দেখতে পারি এবং নতুন দক্ষতা শিখতে পারি। এছাড়া অনলাইন শপিং,
ব্যাংকিং, সামাজিক যোগাযোগ এবং ডিজিটাল মার্কেটিংকে সহজ ও কার্যকর করে। তবে
নিরাপদ অনলাইন ব্যবহার সচেতনতার সঙ্গে করা জরুরি। সঠিক তথ্য ও নিরাপদ
অভ্যাস বজায় রাখলে অনলাইন যাত্রা আমাদের জীবনে শিক্ষা, সৃজনশীলতা এবং
প্রগতি আনতে সহায়ক হয়।



অনলাইন যাত্রার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url