কাদায় রসুন চাষ পদ্ধতি পরিশ্রমে সাফল্যের নিশ্চয়তা
কাদায় রসুন চাষ পদ্ধতি, আপনি যদি এমন কোনো ফসল চাষ করতে চান যা কম খরচে
ভালো মুনাফা দেয়, তাহলে রসুন হতে পারে আপনার জন্য অন্যতম সেরা পছন্দ। বিশেষ করে
আমাদের দেশের কাদাযুক্ত মাটিতে রসুন চাষ একেবারে দারুণ ফলন দেয়।
আজকের এই আলোচনায় আমি আপনাকে ধাপে ধাপে জানাবো, কীভাবে কাদায় রসুন চাষ করবেন, কোন
সার ব্যবহার করবেন, কখন বীজ লাগাবেন, এমনকি কীভাবে রসুন বড় ও সুন্দর করবেন, সব
কিছু। চলুন শুরু করা যাক।
পেজ সূচিপত্রঃ কাদায় রসুন চাষ পদ্ধতি
- কাদায় রসুন চাষ পদ্ধতি
- হাইব্রিড ও আধুনিক রসুন চাষ পদ্ধতি
- বস্তায় রসুন চাষের সহজ উপায়
- রসুন চাষের উপযুক্ত সময় ও নিয়ম
- বিঘা প্রতি রসুনের ফলন কত হয়
- রসুন বড় করার উপায় ও কৌশল
- বিঘায় কত মণ রসুন ফলন হয়
- রসুনে কোন কোন সার দিতে হয়
- রসুনের জাত ও তাদের বৈশিষ্ট্য
- বারি রসুন ১ এর বৈশিষ্ট্য ও ফলন
- রসুন উঠানোর সঠিক সময় ও লক্ষণ
- শেষ কথাঃ কাদায় রসুন চাষ পদ্ধতি
কাদায় রসুন চাষ পদ্ধতি
প্রথমেই বলে রাখা কাদায় রসুন চাষ পদ্ধতি মানে এই নয় যে মাটি একেবারে পানি জমা
থাকবে। বরং একটু নরম, আর্দ্র এবং উর্বর কাদাযুক্ত দোআঁশ মাটি রসুনের জন্য
সবচেয়ে উপযোগী। মাটি প্রস্তুতকরণ, রসুন চাষের আগে জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে মাটি
ঝুরঝুরে করতে হবে। কাদাযুক্ত মাটিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে, কারণ
অতিরিক্ত পানি থাকলে কোয়া পচে যেতে পারে। সাধারণত ৩.৪ বার চাষ দিয়ে মাটিকে
সমান করে নিতে হয়। বীজ বাছাই, রসুনের বীজ হিসেবে ব্যবহার হয় কোয়া। আপনি যদি
উন্নত জাতের রসুন চান, তবে স্বাস্থ্যবান, বড় ও শুকনো কোয়াগুলো বেছে নিন।
পচা বা কুঁচকানো কোয়া কখনই ব্যবহার করবেন না. রোপণ পদ্ধতি, রসুনের কোয়া
রোপণের সময় কোয়ার ডগা ওপরের দিকে থাকবে এবং প্রায় ২.৫ থেকে ৩ সেন্টিমিটার
গভীরে মাটিতে বসাতে হবে। সারির দূরত্ব হবে ১৫ সেমি এবং গাছের দূরত্ব ১০ সেমি।
সেচ ও পরিচর্যা, কাদাযুক্ত মাটিতে সাধারণত আর্দ্রতা বেশি থাকে, তাই ঘন
ঘন সেচ দেওয়া প্রয়োজন হয় না। তবে শুষ্ক মৌসুমে ১৫.২০ দিন অন্তর হালকা সেচ
দিন। আগাছা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করতে হবে। রোগবালাই দমন, রসুনে
সাধারণত পচা রোগ, পাতার দাগ ও পিঁপড়ার আক্রমণ দেখা যায়। এসব সমস্যা দেখা
দিলে বোর্ডো মিশ্রণ বা অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।
হাইব্রিড ও আধুনিক রসুন চাষ পদ্ধতি
বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় হাইব্রিড জাতের রসুন চাষ দ্রুত জনপ্রিয়
হয়ে উঠছে। কারণ হাইব্রিড জাতের রসুনের কোয়া বড় হয়, ফলনও তুলনামূলক বেশি।
হাইব্রিড বীজ নির্বাচন, চীনা হাইব্রিড রসুন, বারি রসুন ১, বারি রসুন ২
ইত্যাদি জাত আমাদের দেশে ভালো ফলন দেয়। এই জাতগুলোর কোয়া বড়, খোসা পাতলা ও
সংরক্ষণযোগ্যতা বেশি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, এখন অনেক কৃষক মাটির
আর্দ্রতা পরিমাপক সেন্সর, ড্রিপ সেচ, এমনকি মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
এগুলোর মাধ্যমে মাটির আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, ফলে রসুন দ্রুত বৃদ্ধি
পায়।
আরোও পড়ুনঃ
আধুনিক পদ্ধতিতে পেয়ারা চাষ সম্পূর্ণ গাইড
রোপণের সময়, হাইব্রিড রসুন সাধারণত অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসে রোপণ করা হয়।
এতে ডিসেম্বর, জানুয়ারি থেকে গাছ ভালোভাবে গজাতে শুরু করে এবং ফেব্রুয়ারি
মার্চে তোলা যায়। সারের ব্যবহার, প্রতি বিঘায় ১০.১২ টন গোবর সার, ৫০ কেজি
ইউরিয়া, ৭০ কেজি টিএসপি, ৪০ কেজি এমওপি প্রয়োগ করলে চমৎকার ফলন মেলে। ফলন,
হাইব্রিড পদ্ধতিতে সাধারণত প্রতি বিঘায় ১৮.২২ মণ পর্যন্ত রসুন পাওয়া যায়,
যা দেশি জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
বস্তায় রসুন চাষের সহজ উপায়
অনেকেই হয়তো ভাবছেন, রসুন কি সত্যি বস্তায় চাষ করা যায়? জ্বী হ্যাঁ, যায়!
এবং এটি ঘরোয়া পর্যায়ে বা অল্প জায়গায় রসুন চাষের একটি চমৎকার উপায়।
বস্তু নির্বাচন, ৬০.৭০ কেজির বড় সারের বস্তা নিন। নিচে ৩.৪টি ছোট ছিদ্র
করে পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা রাখুন। মাটি তৈরি, এক অংশ দোআঁশ মাটি, এক
অংশ পচা গোবর এবং এক অংশ বালু মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন।
চাইলে সামান্য ছাইও দিতে পারেন, এতে কীটপতঙ্গ কম হয়। বীজ রোপণ, প্রতিটি
বস্তায় ১৫.২০টি কোয়া রোপণ করা যায়। কোয়া ২.৩ সেন্টিমিটার গভীরে বসিয়ে
হালকা চাপ দিয়ে দিন। সেচ ও যত্ন, প্রতি ২.৩ দিন অন্তর অল্প পানি দিন।
সরাসরি রোদে রাখলে গাছ মজবুত হয়। ফলন, একটি বস্তা থেকে গড়ে ৮০০.১০০০ গ্রাম
পর্যন্ত শুকনো রসুন পাওয়া যায়। আপনি চাইলে ২০.৩০টি বস্তা সাজিয়ে
বাণিজ্যিকভাবেও করতে পারেন।
রসুন চাষের উপযুক্ত সময় ও নিয়ম
বাংলাদেশে রসুন সাধারণত শীতকালীন ফসল হিসেবে চাষ করা হয়। উপযুক্ত সময়,
অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত সময় রসুন চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো। দেরিতে
লাগালে গাছ দুর্বল হয় এবং ফলন কমে যায়। আবহাওয়া ও তাপমাত্রা, ১৫.২০
ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রসুনের জন্য আদর্শ। অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা হলে
গাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।
রোপণ নিয়ম, রোপণের আগে কোয়া ভালোভাবে শুকিয়ে নিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে
১.২ দিন রাখলে অঙ্কুরোদ্গম ভালো হয়। এরপর নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে কোয়া রোপণ
করতে হবে। সেচ ও আগাছা নিয়ন্ত্রণ, রোপণের ১৫ দিন পর প্রথম সেচ দিতে
হবে। প্রতি সেচের পর আগাছা পরিষ্কার করা জরুরি। এতে গাছ বাতাস ও আলো পায়,
ফলে বৃদ্ধিও ভালো হয়।
বিঘা প্রতি রসুনের ফলন কত হয়
এখন আসি সবচেয়ে আগ্রহের জায়গায়, বিঘা প্রতি রসুনের ফলন। রসুনের ফলন নির্ভর
করে জাত, আবহাওয়া, জমির যত্ন এবং সারের ব্যবহার কেমন হয়েছে তার
উপর। দেশি জাতের ফলন, সাধারণভাবে প্রতি বিঘায় ১২.১৫ মণ পর্যন্ত
রসুন পাওয়া যায়। হাইব্রিড বা উন্নত জাতের ফলন, ভালো পরিচর্যা থাকলে
প্রতি বিঘায় ১৮.২২ মণ পর্যন্ত ফলন সম্ভব।
ফলন বাড়ানোর টিপস
- ভালো জাতের কোয়া ব্যবহার করুন।
- জমিতে পানি জমতে দেবেন না।
- নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করুন।
- সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ ও সেচ দিন।
- রোগবালাই দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।
রসুন বড় করার উপায় ও কৌশল
অনেক কৃষকই অভিযোগ করেন, রসুনের কোয়া ছোট হয়ে যায় বা বাল্ব ঠিক মতো বড়
হয় না। আসলে রসুন বড় করার কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর উপায় আছে, যা আপনি যদি
সঠিকভাবে অনুসরণ করেন, ফলন দ্বিগুণ পর্যন্ত পেতে পারেন। উন্নত মানের বীজ
ব্যবহার করুন, রসুনের কোয়া যদি ছোট, শুকিয়ে যাওয়া বা দুর্বল হয়,
তাহলে গাছও তেমন শক্তিশালী হয় না। তাই সবসময় বড়, টাটকা ও স্বাস্থ্যবান
কোয়া বেছে নিন। মাটির উর্বরতা বজায় রাখুন, কাদাযুক্ত জমি রসুনের জন্য
ভালো হলেও এতে জৈব সার মেশানো জরুরি। গোবর সার, কম্পোস্ট বা ছাই ব্যবহার করলে
মাটি হালকা ও উর্বর হয়। সময়মতো সেচ দিন, মাটিতে সবসময় সামান্য
আর্দ্রতা রাখুন, কিন্তু পানি জমতে দেবেন না।
আরোও পড়ুনঃ টমেটো চাষ উপযোগী মাটির বৈশিষ্ট্য
শুষ্ক অবস্থায় গাছের বৃদ্ধি থেমে যায়, আর অতিরিক্ত পানি দিলে কোয়া পচে
যায়। পাতা ও ফুল কেটে দিন, রসুনের গাছে যদি ফুল আসে, সেটা কেটে ফেলা
ভালো। কারণ ফুল থাকলে গাছের পুষ্টি উপরের দিকে চলে যায়, ফলে কোয়া বড় হয়
না। পর্যাপ্ত সূর্যালোক দিন, রসুন গাছ সূর্যের আলো ভালোবাসে। যদি জমি
এমন জায়গায় হয় যেখানে সারাদিন সূর্য পড়ে, সেখানে গাছের বৃদ্ধি অনেক ভালো
হয়। সুষম সার প্রয়োগ করুন, ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, এই তিনটি সার সঠিক
অনুপাতে ব্যবহার করতে হবে। বেশি দিলে গাছ পোড়ে, আর কম দিলে বৃদ্ধিতে বাধা
আসে।
বিঘায় কত মণ রসুন ফলন হয়
রসুনের ফলন সাধারণত জমির মান, জাত, ও যত্নের উপর নির্ভর করে। তবে আমরা গড়
হিসাব করলে নিচের মতো ফলন পাওয়া যায়। জাত প্রতি বিঘায় গড় ফলন (মণ)
মন্তব্য
- দেশি জাত ১২.১৫ মণ সাধারণ পরিচর্যা
- বারি রসুন ১ ১৬.১৮ মণ উন্নত জাত
- চায়না হাইব্রিড ২০.২২ মণ ভালো সেচ ও সার ব্যবস্থাপনায়
- বারি রসুন ২. ১৮.২০ মণ উচ্চ ফলনশীল
- কোয়া মানের উপর
- সঠিক সময়ে সেচ ও সার প্রয়োগ
- জমির উর্বরতা
- রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ
- আবহাওয়ার অনুকূলতা
যদি আপনি পরিকল্পিতভাবে আধুনিক কৌশলে চাষ করেন, তাহলে রসুন একটি অত্যন্ত
লাভজনক ফসল হতে পারে।
রসুনে কোন কোন সার দিতে হয়
রসুন চাষে সারের ভূমিকা অপরিসীম। সঠিক পরিমাণে ও সঠিক সময়ে সার না দিলে ফলন
যেমন কমে যায়, তেমনি কোয়াও ছোট হয়। প্রতি বিঘায় সারের পরিমাণ।
- গোবর সার: ১০.১২ টন (প্রধান জৈব সার হিসেবে)
- ইউরিয়া: ৫০ কেজি
- টিএসপি: ৭০ কেজি
- এমওপি: ৪০ কেজি
- জিপসাম: ১০ কেজি
- জিঙ্ক সালফেট: ১ কেজি
- জমি তৈরির সময় গোবর সার ও টিএসপি পুরোটা মিশিয়ে দিন।
- চারা গজানোর ২০ দিন পর ইউরিয়ার এক-তৃতীয়াংশ দিন।
- আরও ২৫ দিন পর দ্বিতীয় ধাপে ইউরিয়ার বাকি অংশ এবং এমওপি দিন।
যদি জমিতে আগাছা বেশি থাকে বা মাটি শক্ত হয়, তাহলে সারের সঙ্গে সামান্য ছাই মেশান। এতে মাটির গঠন হালকা হয় ও কোয়া সহজে বড় হয়।
রসুনের জাত ও তাদের বৈশিষ্ট্য
বাংলাদেশে রসুনের বেশ কিছু জনপ্রিয় জাত রয়েছে, যা কৃষকরা তাদের এলাকা,
আবহাওয়া ও চাহিদা অনুযায়ী চাষ করেন। নিচে প্রধান জাতগুলো সম্পর্কে
সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়া হলো। দেশি রসুন
- কোয়া ছোট কিন্তু স্বাদ তীব্র।
- শুকানোর পর সংরক্ষণ করা সহজ।
- ফলন তুলনামূলক কম (১২.১৪ মণ বিঘা)।
- কোয়া মাঝারি বড়।
- রং হালকা বাদামী।
- ফলন ভালো ও সংরক্ষণযোগ্যতা বেশি।
- কোয়া বড়, খোসা পাতলা।
- প্রতি বিঘায় ১৮.২০ মণ পর্যন্ত ফলন সম্ভব।
- রান্নায় সুগন্ধি স্বাদ দেয়।
- কোয়া বড় ও চকচকে সাদা রঙের।
- ফলন বেশি কিন্তু সংরক্ষণ সময় কম।
- বাজারে দাম সাধারণত বেশি।
- আকার মাঝারি, রং সাদা।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো।
আপনি যদি বাণিজ্যিকভাবে রসুন চাষ করতে চান, তাহলে বারি রসুন ১ বা চায়না
হাইব্রিড জাত বেছে নিতে পারেন।
বারি রসুন ১ এর বৈশিষ্ট্য ও ফলন
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি রসুন ১ আমাদের দেশের অন্যতম
জনপ্রিয় জাত। প্রধান বৈশিষ্ট্য
- গাছ মাঝারি উচ্চতার ও শক্ত কাণ্ডযুক্ত।
- প্রতি মাথায় ১২.১৫টি কোয়া থাকে।
- কোয়া মাঝারি আকারের ও হালকা বাদামী রঙের।
- খোসা পাতলা, সহজে ছাড়ানো যায়।
- স্বাদ ঝাঁঝালো ও সুগন্ধযুক্ত।
- প্রতি বিঘায় ১৬.১৮ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।
- কোয়া সমান আকারের হওয়ায় বাজারে দামও ভালো মেলে।
- সংরক্ষণযোগ্যতা ভালো, ৬.৭ মাস পর্যন্ত গুদামে রাখা যায়।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি।
- স্থানীয় পরিবেশে মানিয়ে নিতে সক্ষম।
- কম সেচে চাষ করা যায়।
রসুন উঠানোর সঠিক সময় ও লক্ষণ
রসুন কখন তোলা যাবে, এটি জানাটা অত্যন্ত জরুরি। কারণ আগে তুললে কোয়া ঠিকভাবে
তৈরি হয় না, আর দেরি করলে কোয়া ফেটে যায় বা পচে যেতে পারে। তোলার উপযুক্ত
লক্ষণ।
- গাছের পাতাগুলো যখন ৭৫.৮০% শুকিয়ে যাবে।
- পাতার রঙ হালকা বাদামী হবে।
- গাছের গোড়া শক্ত হবে এবং কোয়া স্পষ্ট বোঝা যাবে।
সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে রসুন তোলার উপযুক্ত সময়।
- সকালে বা বিকেলে যখন রোদ নরম থাকে তখন তুলুন।
- গাছ মাটি থেকে টেনে তুলে হালকা ছায়ায় ২.৩ দিন শুকিয়ে নিন।
- তারপর মাথা কেটে ঝুলিয়ে রাখুন যাতে পুরোপুরি শুকিয়ে যায়।
রসুন শুকিয়ে গেলে ঝুলিয়ে রাখলে ৬ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। ঠান্ডা, শুকনো ও
বাতাস চলাচলকারী স্থানে রাখাই শ্রেয়।
শেষ কথাঃ কাদায় রসুন চাষ পদ্ধতি
আপনি যদি ধৈর্য ধরে পরিকল্পিতভাবে কাদায় রসুন চাষ পদ্ধতি করেন, তাহলে
কাদাযুক্ত জমিও আপনার জন্য সোনালী ফসল এনে দিতে পারে। কাদায় রসুন চাষ পদ্ধতি
আসলে কোনো জটিল প্রক্রিয়া নয়, দরকার কেবল সঠিক সময়ে কাজ করা, একটু যত্ন,
আর কিছু কৃষি বুদ্ধি। রসুন শুধু রান্নায় নয়, ওষুধি গুণেও সমৃদ্ধ। তাই
চাহিদা থাকবেই। আপনি এখনই ছোট পরিসরে শুরু করুন, দেখবেন এই সোনালী কোয়াগুলোই
আপনাকে মুনাফার আলো দেখাবে।
আমার মতে, এখনই সময় কৃষকদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রসুন চাষে আরও
আগানো উচিত। ড্রিপ সেচ, মালচিং, উন্নত জাত ব্যবহার, এসব পদ্ধতি শুধু ফলন
বাড়ায় না, উৎপাদন খরচও কমিয়ে দেয়। শেষে একটা কথাই বলব, আপনি যদি মন দিয়ে
রসুন চাষ করেন, মাটি আপনাকে নিরাশ করবে না। এই ফসল কেবল অর্থনৈতিক দিকেই নয়,
দেশের কৃষি উন্নয়নের দিক থেকেও এক অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে।

অনলাইন যাত্রার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url